April 22, 2026, 5:49 am

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন পোর্টাল
সংবাদ শিরোনাম :
মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি/ গ্রাহক পার্যায়ে বছরে সোয়া ১১ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত চাপ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থী চূড়ান্ত, কুষ্টিয়ায় ফরিদা ইয়াসমিন মহেশপুর সীমান্তে তিন বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ মেহেরপুরে বিএনপি নেতাকে গুলি, আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা স্থানান্তর এক মাসে দু’বার ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধির ধাক্কায় এলপিজি/ অদৃশ্য চাপ ও জনজীবনে সহ্য ক্ষমতা কুষ্টিয়ায় আধ্যাত্মিক সাধুগুরু হত্যাকাণ্ড/ মামলার আসামি তালিকা নিয়ে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পাম্প মালিকদের অভিনন্দন: সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়লো/ দেড় বছরে বাড়তির ধারায় নতুন চাপ জনজীবনে কুষ্টিয়ায় আধ্যাত্মিক সাধক হত্যা: ১ সপ্তাহেও কোন গ্রেপ্তার নেই, প্রকাশ্যে ঘুরছে এজাহারভুক্ত আসামিরা মুজিবনগর দিবসে রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি না থাকায় নাগরিক সমাজের ক্ষোভ

নতুন বাংলাদেশে লালন ফকির ও হাসন রাজার অনুষ্ঠানও জাতীয়ভাবে পালন করা উচিৎ ঃ সংস্কৃতি উপদেষ্টা

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, আমাদের দেশের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রাথমিক অভিব্যক্তি হলো গান। আমাদের দেশের মানুষ যখন আনন্দ পান বা দুুঃখ পান কিংবা অনুভূতি জানাতে চান তাদের প্রাথমিক অভিব্যক্তি হয়ে উঠে গান।
“আমি এইগুলোকে শুধু গান হিসেবে না দেখে কবিতা ও দর্শন হিসেবে দেখতে বলবো। তাহলেই আমরা বুঝতে পারবো আমাদের এ অঞ্চলের দর্শন ও ভাবের গভীরতা কতটুকু ছিল,” তিনি বলেন।
বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে বিশ^কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তিনদিনব্যাপী জাতীয় আয়োজনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। কিন্তু ব্যস্ততার কারনে যেতে না পারায় তিনি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন।
উপদেষ্টা বলেন, এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় দার্শনিক ও গানের মানুষ হলেন লালন ও সিরাজ (ফকির লালন সাঁই ও তার গুরু সিরজ সাঁই)। আমরা যেমন রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন করছি,নজরুল জয়ন্তী পালন করছি তেমনি আমাদের হীনমন্যতা থেকে বেড়িয়ে এসে নতুন বাংলাদেশে লালন ফকির ও হাসন রাজার অনুষ্ঠান জাতীয়ভাবে পালন করা উচিৎ বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, জমিদারি সূত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলাইদহে আসতেন। সেখানকার মানুষের সাথে তার আলাদা একটি দেয়া-দেয়া সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সেটা ছিল জাগতিক ও ইন্টেলেকচুয়াল। রবীন্দ্রনাথের অনেক চিঠিপত্রে তিনি বলেছেন বাংলাদেশের প্রকৃতির টানের পাশাপাশি এদেশের একদল ভাবুক মানুষের সাথে তার যোগাযোগ ছিল। বিশেষ করে গগন হরকরা।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মফিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফরহাদ সিদ্দিক, ভাষা বিজ্ঞানী অধ্যাপক মনসুর মুসা।
বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান।
উপাচার্য ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও বাংলা সাহিত্য একে অপরে পরিপূরক। বাংলা সাহিত্যে তাঁর স্থান অনন্য, অসাধারন। বাংলা সাহিত্যের সব কটি ধারা তার লেখনীতে সমৃদ্ধ। বাংলা সাহিত্যে একমাত্র রবীন্দ্রনাথেরই একটি নিজস্ব অধ্যায় রয়েছে। যে অধ্যায় বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে এক মহান উচ্চতা। রবীন্দ্রনাথ বাংলার কবি, বাঙালির কবি। তারও অধিক তিনি ছিলেন বিশ্বচরাচরের কবি ; বিশ্বকবি।
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য বাস্তবতা ছিল মিলিত প্রাণের প্রেমের। এই মিলন সমগ্র সত্তার সাথে প্রতিটি সত্তার ; প্রাণীজগৎ, নিসর্গ, প্রকৃতিকে । শুধু তাই নয়, শিল্পের জগত, কল্পনার জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নিজের বিস্তার ঘটানো।
রবীন্দ্রনাথকে বলা হয় ভার্সেটাইল জিনিয়াস। তিনি ছিলেন কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, প্রাবন্ধিক, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ-সংস্কারক। মূলত কবি হিসেবেই তাঁর প্রতিভা বিশ্বময় স্বীকৃত। ১৯১৩ সালে তাঁকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। এশিয়ার বিদগ্ধ ও বরেণ্য ব্যক্তিদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই পুরস্কার জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
আলোচনা শেষে মূল মঞ্চে রবীন্দ্র সংঙ্গীত,কবিতা আবৃত্তি, দলীয় নৃত্য ও রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক পরিবেশন করেন কুষ্টিয়া জেলা ছাড়াও জাতীয় পর্যায়ের রবীন্দ্র শিল্পীরা।
এর আগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীদের কন্ঠে জাতীয় ও রবীন্দ্র সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সুচনা করা হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এবারের আয়োজনে কুঠিবাড়ির মুল মঞ্চে প্রতিদিনই আলোচনা সভার পাশাপাশি রবীন্দ্র সংঙ্গীত, কবিতা আবৃত্তি,দলীয় নৃত্য ও রবীন্দ্রনাথের লেখা নাটক পরিবেশন করা হবে। সাথে কুঠিবাড়ী চত্ত্বরে বসেছে বিশাল গ্রামীণ মেলা। নানা রকম পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানীরা।
এদিকে তিনদিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে শিলাইদহ কুঠিবাড়ি আঙিনা হাজারো দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠেছে। দর্শনাথীদের সুযোগ সুবিধা সৃষ্টির পাশাপাশি কুঠিবাড়িকে পুর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি এই অঞ্চলের মানুষের।
জমিদারী দেখাশোনার জন্য ১৮৯১ সালে প্রথম এই কুঠিবাড়িতে আসেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নিরিবিলি পরিবেশ, জমিদারী আর ব্যবসার কারনে বার বার কুষ্টিয়ার এই কুঠিবাড়িতে ফিরে আসতেন তিনি। নিভূত বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কুষ্টিয়ার শিলাইদহে কবীর জীবনের বেশকিছু মূল্যবান সময় কেটেছে। এখানে বসে রচিত গীতাঞ্জলী কাব্যই রবীন্দ্রনাথকে এনে দিয়েছে নোবেল পুরষ্কার আর বিশ্বকবির মর্যাদা। এছাড়াও তিনি এখানে বসেই আমাদের জাতীয় সঙ্গীতসহ অসংখ্য কালজয়ী সাহিত্য রচনা করেছেন। কুঠিবাড়িতে সংরক্ষণ আছে সেসব দিনের নানা স্মৃতি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

Comments are closed.

পুরোনো খবর এখানে,তারিখ অনুযায়ী

MonTueWedThuFriSatSun
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031
© All rights reserved © 2024 dainikkushtia.net
Maintenance By DainikKushtia.net